রাগ কোরো না
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে অনুরোধ করলেন, ' আমাকে উপদেশ দিন।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ' রাগ কোরো না।' লোকটি বেশ কয়েকবার অনুরোধ করলেন। রাসূল প্রতিবারই জবাবে বললেন, ' রাগ কোরো না।'
[ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬১১৬ ]
সালাফের দরসে
❒ মুয়াররিক ইজলি রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি কখনোই প্রচন্ডভাবে রাগ করিনি এবং রাগের মাঝে এমন কথাও বলিনি, যার জন্যে রাগ চলে যাওয়ার পর আমাকে অনুতপ্ত হতে হয়।
❒ উমার ইবনু আব্দুল আযীয রহিমাহুল্লাহ একদিন রেগে গিয়েছিলেন। তখন তার সন্তান আব্দুল মালিক বললেন, ' হে আমিরুল মুমীনিন! আল্লাহ আপনাকে এত এত নিয়ামত ও অনুগ্রহ দেওয়া সত্ত্বেও আপনি রাগ করেছেন!' পিতা বললেন, ' আবদুল মালিক! তুমি কি কখনও রাগ করো না?' সন্তান বললেন, রাগ প্রকাশ পাওয়ার আগে রাগকে যদি দমন করতে না পারি, তবে নিজের ভেতরের এত খালি জায়গা দিয়ে আর কী হবে!'
❒ উমার ইবনু আব্দুল আযীয রহিমাহুল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি কুপ্রবৃত্তি,রাগ ও লোভ থেকে মুক্ত, সে সফল।
❒ হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেন,
এই চার সময়ে যে ব্যক্তি নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে, আল্লাহ তাকে শয়তান থেকে নিরাপদ রাখবেন এবং জাহান্নাম তার জন্য হারাম করে দিবেন।
❒ আতা ইবনু আবি রবাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, শেষ বয়সে রাগ ছাড়া অন্য কোনো কারণেই আলেমরা এত কাদেনি। কেননা রাগ মানুষের পঞ্চাশ-ষাট-সত্তর বছরের অর্জিত আমলকেও ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। অনেক সময় একটি রাগও মানুষকে এমন স্থানে টেনে নিয়ে যায়, যেখান থেকে সে পরিত্রান পেতে চায়।
[ নবিজির পরশে সালাফের দরসে, পৃষ্ঠা নং ৫২,৫৩ ]